প্রচ্ছদ

কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বিপাকে হতদরিদ্র পরিবার !  চাপ প্রয়োগ না করতে ইউএনও সাকিব ও পারভিনের নির্দেশ   

ডেইলি গোয়াইনঘাট ডেস্ক :: বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাসিক/ সপ্তাহিক কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বিপাকে রয়েছে  জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট উপজেলায় বসবাসরত লক্ষাধিক পরিবার। নিরবে প্রাণঘাতী ক্যান্সারের মতো ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে অসহায় সে পরিবার গুলো।

বাংলাদেশের চলমান কঠিন দুঃসময়ের মধ্য দিয়েও ঋনের বুজা নিয়ে বিপাকে মানুষ গুলোর কথা কেউ ভাবছে না। সারাদেশে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক দিন দিন ছড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমান এ নাজুক পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহ কিংবা প্রতিমাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ কিভাবে করবে এ নিয়ে চিন্তিত রয়েছে অল্প আয়ের মানুষেরা। করনো ভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট উপজেলার মানুষের চলাচল আগের থেকে অনেক কমে এসেছে। যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায় । ঠিক এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন, বেসরকারি এনজিও ও সমিতি থেকে নেয়া টাকার কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েছে ঋণগ্রহীতারা।

কয়টি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নেয়া কিস্তি পরিশোধ নিয়ে একাধিক ঋণ গ্রহীতার মধ্যে কেউ ক্ষুদ্র চায়ের দোকানদার, আবার কেউবা সিএনজি অটোরিক্সা চালক কিংবা দিন মজুর। যার ফলে এসব হতদরিদ্র মানুষেরা সময় মতো কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, পড়তে হচ্ছে নানা বিরম্বনায়।

দুটি উপজেলার একাধিক সিএনজি,অটোরিকশা, চালকদের সাথে আলাপ করলে জানাযায়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে এখন আর আগের মতো মানুষের চলাচল না থাকায় আমরা যথেষ্ট পরিমাণ যাত্রী পাচ্ছিনা। কিন্তু টাকা রোজগার হউক আর না হউক এমন এক দুঃসময়ে ঋণের কিস্তির টাকা সংগ্রহ করা আমাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।  কিস্তির টাকার জন্য এনজিও প্রতিনিধিরা যথাসময়ে টাকা না দিলে তারা বাড়ি ছাড়ছে না যার ফলে সইতে হচ্ছে নানান ধরনের লাঞ্ছনা। এমন এক নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমাদের মতো খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষেরা।

জৈন্তাপুর বাজারে রহিম নামে আরোও একজন ব্যক্তি যিনি মুদির দোকান পরিচালনা করে সংসার চালান। তিনি বলেন, আমি একটি এনজিও থেকে ৩০হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি মুদির দোকান দিয়েছিলাম। এই টাকার কিস্তি প্রতি সপ্তাহে আটশ টাকা যোগাড় করতেই হয়। কিন্তু করোনার ভাইরাস এর কারনে মানুষের চলাচল / বেচা-কেনা কম থাকায় আমি আগের মত রোজগার করতে পারছি না। যার ফলশ্রুতিতে আমি কিস্তির টাকা পরিশোধে বিড়ম্বনায় রয়েছি। দিনমজুর আতিক বলেন, এখন কেউ কাজের জন্য আগের মতো ডাকে না। কাজ না থাকলেও প্রতি সপ্তাহে আমার ঋণের কিস্তির টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছি। তবে দেশের বর্তমান সময়ে কিন্তির টাকা আদায় স্থগিত রাখার দাবি তুলেছেন হাজারো ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে একাধিক ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের ভয়ে মানুষ বাসা বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না।  সকল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান নিস্তব্ধ হয়ে গেছে, সারাদিনে বেচা কেনা করার মতো কোন পরিবেশ নেই। এদিকে বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা কিস্তির জন্য তাগিদ দিচ্ছে। তাই সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানাচ্ছি দেশের এ ক্লান্তি লগ্নে সকল এনজিও প্রতিষ্ঠানের কিস্থির টাকা আপাতত বন্ধ রাখতে। পরিবেশ সচল হলে আমরা ঋনের সমূদয় টাকা ফেরৎ দিয়ে দেব।

এব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব ডেইলি গোয়াইনঘাটকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেনা। এজন্য কিস্তির টাকার জন্য কাউকে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ না করতে সকল এনজিও প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন’র সাথে আলাপ করলে তিনি ডেইলি গোয়াইনঘাটকে জানান, দেশের এমন পরিস্থিতিতে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা আসলেই আমার বোধগম্য নয়। আজই এ উপজেলায় অবস্থিত সকল এনজিও প্রতিষ্ঠানের সাথে আলাপ করবো। যাহাতে দেশের এ সংকটাপন্ন সময়ে ঋনের টাকা গুলো উত্তোলন না করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *