গোয়াইনঘাটে ২১৬ হেক্টর জমিতে নাগা মরিচ,মিষ্টি লাউ চাষ, দিগুণ ফলনের আশা কৃষি বিভাগের

Spread the love

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময়ী হয়ে উঠেছে নাগা মরিচ এবং মিষ্টি লাউ চাষ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ‘বোম্বাই মরিচ’ বা ‘ফোটকা মরিচ’ নামেও পরিচিত। দেখতে সাধারণ মরিচের মতো হলেও তীব্র ঝাঁজ আর ঘ্রাণের জন্য এই মরিচ সিলেট অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। তুলনামূলক কম বিনিয়োগ ও পরিশ্রমে ভালো ফলন এবং বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় অনেকে ঝুঁকছেন নাগা মরিচ এবং মিষ্টি লাউ চাষে। উপজেলার ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও, ৩নং পূর্ব জাফলং ও ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের মাটি নাগা মরিচ এবং মিষ্টি লাউ চাষের উপযুক্ত হওয়ায় চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর গোয়াইনঘাটে স্থানীয় উন্নত জাতের কালো নাগা মরিচ, মিষ্টি লাউ আনুমানিক ২১৬ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। যা গতবছরের চেয়ে অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের চাষিরা অন্য ফসলের পাশাপাশি ব্যস্ত রয়েছেন মিষ্টি লাউ, নাগামরিচ চাষে। ফসল গুলো লাভজনক হওয়ায় ছোট-বড় অনেক চাষি এখন মিষ্টি লাউ ও নাগা মরিচের চাষ করেন। মিষ্টি লাউ, মরিচ বাণিজ্যিকভাবে এখন চাষ করা হয় গোয়াইনঘাট উপজেলাজুড়ে। ফলে গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উপজেলার ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নয়াখেল, খলাগ্রাম, খাসমৌজা, কাকুনাখাই এলাকায় ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লাউ ও নাগামরিচ চাষে। আর কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিতে মাঠে রয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারাও। বিভিন্ন বাগানে মাঝারি আকৃতির গাছে ঝুলছে মিষ্টি লাউ এবং সবুজ নাগা মরিচ। তীব্র ঝালের জন্য এই মরিচ বিখ্যাত। এর ঝাল এতটাই তীব্র যে, সাধারণ মানুষ না জেনে মুখে দিলে পড়তে পারেন বিপদে। পরিমাণ বুঝে খেতে হয় এ মরিচ। তবে নাগা প্রেমীদের খাবারের থালায় এক টুকরো নাগা মরিচ থাকলে তাতেই সফল হয় তাদের ভোজ।   নাগামরিচ তীব্র ঝালযুক্ত হলেও এর ঘ্রাণে রয়েছে সুগন্ধী। সিলেট অঞ্চলে এটিকে নাগামরিচ বলে। তবে অঞ্চল ভেদে এই মরিচের নাম বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে।

উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নয়াখেল এলাকার নাগামরিচ ও লাউ চাষি আব্দুল মতিন বলেন, তার বাগানে প্রায় আট হাজার নাগামরিচ ও ৫হাজার মিষ্টি লাউ গাছ লাগিয়েছি। তবে কিছু গাছ পুরোপুরি কখনোই টেকে না। নানা কারণে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। চারা বেশি নষ্ট হয় বৃষ্টিপাতের ফলে। আশা করছি আমার ৮ হাজার নাগা মরিচ ও ৫হাজার মিষ্টি লাই গাছ থেকে অন্তত  সিংহভাগ টিকে আছে। প্রতি পিস নাগার দাম এক টাকা থেকে দেড় টাকা। আর বাজার ভালো থাকলে প্রতি পিস নাগার দাম পড়ে ২ থেকে ৩ টাকা। গাছগুলো ভালোভাবে পরিচর্যাসহ প্রযোজনীয় সার ও কীটনাশক দিলে একেকটি গাছে এক মৌসুমে প্রায় ২থেকে ৪শ মরিচ ধরে। আর সাধারণভাবে অপেক্ষাকৃত যত্ন কম হলে এক মৌসুমে গাছপ্রতি ৫০ থেকে ৬০টি মরিচ ধরে। অনেক বেশি পরিচর্যা করতে হয়। এ মৌসুমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান কৃষক আবদুল মতিন। গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ (রনি) বলেন, গোয়াইনঘাটে এইবার ২১৬ হেক্টর জমিতে মিষ্টি লাউ এবং নাগামরিচ আবাদ হয়েছে। বাজারে ভালো দাম আছে এবং এগুলো রপ্তানিযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ফসল। বন্যা না আসা পর্যন্ত এ ফসলের ক্ষতির কোন সম্ভাবনা থাকে না। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে আবাদ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। আমরা যে কোন প্রয়োজনে কৃষকদের পাশে আছি। তিনি জানান, এর আগেও গোয়াইনঘাটে নাগামরিচ চাষ হতো তবে এতোটা জনপ্রিয় ও ব্যাপক হারে ছিল না। বৈশ্বিক কোন কারণ হলে এবারের ফলনে কৃষকরা অনেক টাকার নাগা মরিচ বিক্রির আশা করছি। ক্যাপশন:: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২১৬ হেক্টর জমিতে সম্ভাবনাময়ী হয়ে উঠেছে নাগা মরিচ চাষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *