Uncategorized

গোয়াইনঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধ কাঁদছে শ্রমিক

ডেইলি গোয়াইনঘাট ডেস্ক :: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় থমকে গেছে পুরো দুনিয়া। দেশে দেশে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। টালমাটাল পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি। করোনার এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে মধ্যেম আয়ের মানুষের জীবন। যার কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ক্রমশই বাড়ছে চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম।

সিলেটের গোয়াইনঘাটে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় ঘন ঘন পাহাড়ি প্লাবনে ও বন্যায় যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে  উপজেলাবাসী। তেমনি অন্যদিকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর দিনযাপন করছে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বাতাস। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

একদিকে করোনা-বন্যা, অপরদিকে জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় উপজেলাবাসীর জন্য মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনের চালিকা শক্তি। বেজে ওঠতে শুরু করেছে মানবেতর জীবন ও দুর্ভিক্ষের মতো ক্ষনঘন্ট। দেশে স্বর্ণের খণি বলে খ্যাত পাথর-বালুময় বৃহত্তর উপজেলা গোয়াইনঘাটের ৩লাখ মানুষের মাঝে কয়েক হাজার শ্রমিক অন্য, বস্তু নিয়ে রয়েছে বিপাকে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। সূযোগ নেই বন্দুকের নলের মূখে সীমান্ত পেরিয়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে যাওয়ার।

ভারতের পর্বতময় মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে অবস্থিত গোয়াইনঘাট উপজেলায় পাহাড়ি ঢল থাকে বছরে প্রায় ৮ মাস। খননের অভাবে এখানকার নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো পাহাড়ি ঢলের পানির ধারন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৮মাস প্রত্যহ লেগে থাকে বন্যা আর বন্যা। পাশাপাশি নদী খনন ও পাথর বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় উপজেলাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অবস্থান ক্রমশঃ দুর্বিসহ এবং ভয়াবহ রূপ ধারনা করে চলেছে নিরবে।

সরকারী সিদ্ধান্তে উপজেলার বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় শ্রমজীবী লোকের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছিল। এরই মধ্যে আবির্ভূত হয় বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস। ফলে একদিকে মৃত্যুর ঝুকি ও অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া খদ্য সংকট। এই দুটি মিলে ভয়াবহ প্রতিধ্বনি শুনা যাচ্ছে উপজেলার লাখ লাখ মানুষের মধ্যে। উপজেলার এই শ্রমজীবি পরিবারগুলোর একমাত্র ভরসা জাফলংয়ের বালু-পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করা।

সেই আশা নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সম্প্রতি নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করেছিল শ্রমিকরা। নৌকায় বালু উত্তোলন করে দৈনিক একজন শ্রমিক হাজার খানেক টাকা রোজকার করে কোন রকমে সংসার চালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু হঠাৎ সেই উর্পাজনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হলে বিকল্প কোন কর্মসংস্থান না থাকায় অনাহারে ‘অর্ধাহারের হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারে মধ্যে। মাস খানেক আগেও এই শ্রমিক পরিবার গুলো সাহায্যের জন্য বিত্তবাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিল ঠিকই। কিন্তু নদীতে পানি আসার পর তারা কারো কাছে গিয়ে সাহায্য চাইতেও পারছে না। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রও বন্ধ তাদের। এ অবস্থায় তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের সকল পথ রূদ্ধশ্বাস বেড়াজাল লৌহযবণিকায় বন্দী হয়ে পড়েছে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি ও আসন্ন ঈদুল আযহায় পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি কপালে জুটবে কি না তা নিয়ে শ্রমিক পরিবারের মাঝে দেখা দিয়েছে দুঃস্বপ্ন। এমতাবস্থায় গোয়াইনঘাট উপজেলার লাখ লাখ মানুষ বন্যা-প্লাবণ ও খাদ্য সংকট থেকে রক্ষার্থে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু দৃষ্টি কামনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *