রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন দে

Spread the love

গোয়াইনঘাট (সিলেট) সংবাদদাতা:: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছয় জাতের রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে তার রঙ্গিন স্বপ্ন পূরণের পথে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন দে । বাগানে ফলনকৃত হাজারো ফুলকপির লাল, সবুজ নীল পাপড়িতে উকি দিচ্ছে মিঠুনের রঙ্গিন স্বপ্ন। ৬ বিঘা জমিতে দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সাদা ব্রোকলি সবুজ বেগুনী হলুদ সহ ছয় জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন তিনি। মিঠুন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা। অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে এইচএসসি পাশ করার পর পড়াশোনাটা আর চালিয়ে যেতে পারেননি এ উদ্যোক্তা। এদিকে রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে তার এ পর্যন্ত যা বিক্রি হয়েছে তা থেকে লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। এমনটাই জানান সফল কৃষক মিঠুন । তিনি জানান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলো বছর প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প জায়গায় রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করেন। সেখানে তিনি সফলতা পেয়ে এ বছর বাণিজ্যিকভাবে ছয় বিঘা জমিতে রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করেছেন। সেই রঙ্গিন ফুলকপির হাসি ভুলিয়েছে একসময়ের ঋণ ও হতাশায় জর্জরিত কৃষক মিঠুন দে’র।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পোলট্রি খামার সহ বিভিন্ন ব্যবসায় বারবার বড় ধরনের লোকসান হয় তার। পরে মিঠুন যখন ১৮ লাখ টাকা ঋণের বোঝার ভার ও বিভিন্ন মানুষের কটুকথা তিরস্কার লাঞ্ছনা বঞ্চনা সইতে না পেরে যখন আত্মহত্যার করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েছিলেন ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়ায় উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস। প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহযোগিতা না করলেও জীবন যুদ্ধে কিভাবে জয়ী হতে হয় দেয় তার পরামর্শ।

মিঠুন ভোরের কাগজকে জানান, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে যাওয়ার মতো গাড়ি ভাড়া ছিলো না তার পকেটে। পরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাই তাকে ১০০০ টাকার নোট দিয়েছেন পকেট খরচ করার জন্য ও সঙ্গে  প্রশিক্ষণের সুযোগ ও স্বল্প-ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যার কারণে তার আজকের অবস্থান। বর্তমানে তিনি রঙ্গিন ফুলকপি বিক্রি করে বিনিয়োগকৃত ২ লক্ষ টাকা তুলে আরও লাখ টাকা আয় করেছেন। এখন যা বিক্রি হচ্ছে তা ও লাভের মধ্যে রয়েছে। বিনিয়োগের চাইতে পাঁচ গুণ লাভের আশা করছেন তিনি। রঙিন ফুলকপি চাষের বিষয়টি নতুন হওয়ায় আশপাশের অঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন তার ক্ষেত দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এই ফুলকপি চাষ নিয়ে তৈরি করছেন তার সাফল্য গাঁথা প্রতিবেদন। সফল কৃষক মিঠুন দে আরো বলেন, সঠিক শ্রম ও অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকলে সফল উদ্যোক্তা হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়। বাজার মূল্য নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট থাকলেও তার চাষকৃত ফুলকপি শহরের বাজার পর্যন্ত পৌছাতে পারলে আরো ভালো হতো বলে তার ধারণা। তাই তিনি মনে করেন শহরের ব্যবসায়ীরা যদি তার ক্ষেত থেকে রঙ্গিন ফুল কপি সংগ্রহ করেন তাতে উভয়ই লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশী । এজন্য তিনি তা প্রচারের জন্য ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। ফতেপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক আহমদ বলেন, মিঠুন অদম্য ইচ্ছা শক্তির একজন কৃষক। তার পরিশ্রম ও প্রবল ইচ্ছা শক্তিতে সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি কৃষিতে উৎপাদিত পণ্যগুলো বিক্রির সুযোগ করে দেয়াসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়াই তাহলে মিঠুনের মতো তরুণরা বেকার থাকবেনা। সমাজ সচেতন ব্যক্তি ডা.শাহনুর আলম বলেন, কৃষির সাথে যারা সম্পৃক্ত তারা এক একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং যোদ্ধা। তারা যদি হতাশ হয়ে কৃষি কাজ বন্ধ করে দেয় তাহলে আমাদের সমাজের পরিণতি হবে ভয়ংকর। তাই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের কর্তব্য। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর যাবত উপজেলায় রঙ্গিন ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। রঙ্গিন ফুলকপি চাষ লাভজনক পণ্য। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সার বীজ ও সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। রঙিন ফুলকপি উচ্চ মাত্রায় আয়রন ও ক্যারোটিন সমৃদ্ধ। স্বাদ এবং পুষ্টি গুণেও অতুলনীয়। যা বাণিজ্যিক কৃষিতে একটি নতুন সংযোজন ও সম্ভাবনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *