সিলেট হোম

সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালীচক্র নির্বিঘ্নে মাদকসহ চোরাইপণ্য নিয়ে আসছে

ডেইলি গোয়াইনঘাট ডেস্ক:: সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্তে চোরাচালানি চক্র বেপরোয়াভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইদানীং এলাকার কোনো কোনো ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি দ্রুত ‘বড়লোক’  হওয়ার স্বপ্নে বিনিয়োগ করছেন চোরাচালানসহ মাদকের কারবারে। তাদের বিনিয়োগে সীমান্তের ওপার থেকে চিনি,গরু, মহিষ, চা-পাতা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক আসছে দেদারছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনের সঙ্গে পুরোনো মোবাইলও আসছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুরে ২৯৭টি ভারতীয় মোবাইল ফোন সেট নিয়ে একটি প্রাইভেটকারসহ ইউসুফ আলী নামের একজনকে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।সীমান্তে বসবাসকরী সচেতন মহল বলছেন, প্রতিদিন কঠোর নিরাপত্তার বাহানা ধরে থেমে নেই সীমান্তের চোরাচালান কার্যক্রম। প্রতিনিয়ত ভারতীয় গরু মহিষের পাশাপাশি শাড়ী, থ্রি-পিস, কসমেটিকস এবং মসলাসহ ভারতী পণ্য আসছে বানের জলের মতো। ভারতীয় ঐসব চোরাই পণ্যের দখলে চলে গেছে বাংলাদেশের বাজার। বলা চলে অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ছে দেশের সীমান্ত এলাকা গুলো। চোরাই পন্য আমদানিতে সিন্ডিকেট চক্ররা এখন আরও সক্রিয়। পাচারকারী চক্রটি বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যকে ম্যানেজ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য অবাধে নিয়ে আসছে।জরিপে দেখা গেছে প্রতি মাসে শত কোটি টাকারও বেশি ভারতীয় পণ্য অবাধে দেশে প্রবেশ করার ফলে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকার শুল্ককর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চোরাই পথে আসা ভারতীয় পণ্যের মধ্যে আরও রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট ও প্যান্টের থান কাপড়, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, ব্যাকপাইবার হুইস্কি, রিকোডেস্ক, বিয়ার, মোটর সাইকেল, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, গরু মোটা-তাজাকরণের স্টেরয়েড ট্যাবলেট, হলুদ, জিরা, এলাচি, দারুচিনি, গোলমরিচসহ যাবতীয় মসলা, মুভ, ইসগার্ড, লিভ ৫০২, রিভাইটেল, সেনেগ্রা, ভায়াগ্রা, এডিগ্রা, ডক্টরেট, ফেয়ার এন্ড লাভলিসহ বিভিন্ন কসমেটিকস পন্য। এসব চোরাই মালামালের কিছু কিছু মাঝে মধ্যে পুলিশ কিংবা বিজিবি আটক করলেও পরবর্তীতে কাস্টমসে জমা দেয়ার আগে বেশিরভাগই পেছনের দরজা দিয়ে চলে যায় চোরাই সিন্ডিকেটের হাতে।সাম্প্রতিককালে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চিনির সাথে মাদকসহ অন্যান্য পণ্যও আসছে। মাদকের মারণনেশা ও সহজলভ্যতার কারণে স্কুল ও কলেজগামী তরুণরাই বেশি ঝুঁকছে মাদকের প্রতি। সচেতন মহল মনে করেন সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে, পুলিশ জানায়, চলতি মাসে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় ২০টি বকনা গরু, ১২টি মহিষ, বিপুল পরিমাণ চিনি ও নেশাদ্রব্য আটক করা হয়েছে। অপর দিকে গোয়াইনঘাটে ১০টি গরু, ১৪টি মহিষ এবং জাফলং রাধানগর বাজার থেকে ২২৪ বস্তা চিনিসহ দুই জনকে আটক করা হয়েছে। এসব চোরাইপণ্যের মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। গত মাসে পর্যটন এলাকা কোম্পানীগঞ্জে ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার অফিসার্স চয়েজ মদ, নাসির বিড়ি, ফেনসিডিল আটক করে পুলিশ। চোরাইপণ্য বহনকারীরা মাঝে মধ্যে ধরা পড়লেও মূল হোতারা পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর মহানগরীর বটেশ্বর এলাকা থেকে সাড়ে ৫ হাজার পিসের ইয়াবার চালানসহ রায়হান উদ্দিন নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ।সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, ধরাপড়া চোরাচালানিদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়ে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তিনি জানান, গত আগস্ট মাসে সিলেট জেলায় এক কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য আটক করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *